বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আগুন, এক ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে সিলেট বিয়ানীবাজারেএক মহিলার পোড়া লাশ উদ্ধার লাশের পরিচয় শনাক্তে সহযোগীতা চেয়েছে পুলিশ সাংবাদিকতা একটি মহানপেশা এই পেশার সম্মান রাখতে হবে : পিআইবি মহাপরিচালক রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচনে বিজয়ীরা কে কোথায় কর্মরত পোকখালী যুবলীগের আলোচনা সভা সম্পন্ন জাতীয় দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকা’র সম্পাদক কে কক্সবাজারে অভিনন্দন মোঃ ফরিদ অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় এনএস নিউজ টিভির চেয়ারম্যান এম.এ ওমরের শুভেচ্ছা মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম কমান্ড কক্সবাজার জেলা শাখা গঠিত ওয়ান বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন কক্সবাজারে পিআইবি’র তিনদিন ব্যাপী ‘অনুসন্ধানমূলক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ’ শুরু
২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মূলহোতা তারা

২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মূলহোতা তারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে পিবিআই’র জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আড়ালে রয়েছে এক ওসির স্ত্রীসহ আলোচিত চার ব্যক্তি। যারা ইতিমধ্যে মামলার আসামীও। তারা আত্মসাতের সিংহভাগ টাকা নিজেদের নামে উত্তোলন করেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জড়িতদের নাম প্রকাশ্যে হলেও এই চারজনের নাম রয়েছে প্রায় আড়ালে। তবে এই অনিয়মের ঘটনায় তিনজনের নামও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। সিন্ডিকেট করে তারা এইসব টাকা আত্মসাত করেছে বলে জানা গেছে। এমনকি এই আত্মসাতের পুরো বিষয়টি নেতৃত্বে দেন সদর থানার সাবেক ওসি শাহজাহান। শাহজাহানের হয়ে স্ত্রী এই টাকা গুলো সিন্ডিকেট করে আত্মসাত করেন।
তারা হলেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার পাপড়ী, ছাতক থানার ছাতক পৌরসভার মন্ডলীভোগ এলাকার মোঃ আবুল কাশেমের পুত্র মো. টিপু সুলতান, চকরিয়া ডুলাহাজারার পশ্চিম মাইজপাড়ার এনামুল হকের পুত্র নাছির উদ্দিন ও কক্সবাজার সদর ভারুয়াখালী ইউনিয়নের এম আব্দু সাত্তারের পুত্র নেজামুল হক। তবে মামলা থেকে বাদ যান নেজামুল হক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর থানায় ওসি থাকাকালিন বিভিন্ন ঝামেলায়যুক্ত থাকা জায়গাতে নজর দেন শাহজাহান। এরপর কৌশলে সেগুলো নিজের কজ¦ায় নিয়ে আসেন। তারপর তার স্ত্রীর নামে কাগজ করেন। এভাবে কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন সম্পতির মালিকও হন ওসির স্ত্রী। কক্সবাজারে রয়েছে তাদের নিজস্ব লোকও। এমনকি কলাতলী বাইপাস সড়কে বিকাশ বিল্ডিংয়ের বিপরীত পাশেও ওসি শাহজাহানের নামে জমি রয়েছে। ওই এলাকায় কথিত ভূমিদস্যুদের সাথে রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার জমিও।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের কলাতলীর ঝিলংজা মৌজায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনের (পিবিআই) অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল.এ ০৪/২০১৮-১৯ইং নং মামলা মূলে বি.এস ১৭০৫০, ২০৩০৭, ২০৩০৬ ও ২০১৬৩ দাগের প্রায় এক একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওসি শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তারসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা নামে-বেনামে প্রায় ২৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন মানুষের জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অধিগ্রহণ দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা করে।
এক্ষেত্রে দেখা যায়, ঝিলংজা মৌজার বি.এস ৫৭২ নং খতিয়ানের বি.এস ২০৩০৬ দাগ থেকে ১৯৯১ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৩/৯১-৯২ নং মামলা মূলে ০.৮৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সওজ এর ট্রেসম্যাপ অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত জমি বাদে রাস্তার দক্ষিণ পাশে ০.০৯ একর জমি অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে মূল তথ্য গোপন করে রাস্তার দক্ষিণ পাশে বি.এস ২০৩০৬ দাগ থেকে ০.১৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এভাবে ০.০৯ একর জমির অস্থিত্ব না থাকলেও তা অতিরিক্ত অধিগ্রহণ করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, অধিগ্রহণকৃত ০.১৮ একর জমির মধ্যে ০.০২ একর জমির বি.এস ১২৩৩৬ নং খতিয়ানটিই বাতিল। ওই বাতিল খতিয়ান দেখিয়েই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়া এক জায়গা দুই বার দেখিয়েও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে নানা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়। যা নিরপেক্ষ তদন্ত করলে পিলে চমকানোর মতো তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি এতোই শক্তিশালী যে কোভিড-১৯ এর কারণে লকডাউন চলাকালীন সময়ে অতিগোপনে ভূমি অধিগ্রহন শাখার অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে পূর্বের তারিখ দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকার চেক তুলে নিয়েছেন। চেকের তারিখ, ট্রেজারি, সোনালি ব্যাংক ও স্ব স্ব ব্যাংকের তারিখ পর্যালোচনা করলে তা বেরিয়ে আসবে। এমনকি ভূমি অধিগ্রহন শাখার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেকের স্বাক্ষর নিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যদের বাসা ও হোটেলে গিয়ে।
এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা এডভোকেট নেজামুল হকের নামে ৫২৪৯১৯৮৭ টাকা, নাছির উদ্দিনের নামে ৫২৩৩০৭৩ টাকা, কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার পাপড়ীর নামে তিন দাফে প্রায় ৬ কোটি টাকা ও ছাতক থানার ছাতক পৌরসভার মন্ডলীভোগ এলাকার মো. আবুল কাশেমের পুত্র মো. টিপু সুলতানের নামে প্রায় ৮৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা, গর্জনিয়া এলাকার মৃত বদিউল আলমের পুত্র গোলাম মওলার নামে ৬৫ লাখ ২১ হাজার টাকা ও পটিয়া শিকলবাহা এলাকার এস কে এম সাদেকুর রহমানের পুত্র এস কে শামিমুর রহমানের নামে ৪৩ লাখ ১৯ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে-বেনামে আরও বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয়া হয়।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে ৬ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত রোববার (১৬ আগস্ট) কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কক্সবাজার শহরের সৈকতপাড়ার মৃত নুরুল কবিরের পুত্র নুরুল আলম।
আদালত ফৌজদারি দরখাস্তটি আমলে নিয়ে রেকর্ডভূক্ত করেছেন। একই সাথে অভিযোগ তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।
পিবিআই এর জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোন অনিয়মই আমি ছাড় দিই না। এ বিষয়ে অধীনস্তদের আমি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। পিবিআই এর বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পরই ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।’ ######

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares