বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আগুন, এক ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে সিলেট বিয়ানীবাজারেএক মহিলার পোড়া লাশ উদ্ধার লাশের পরিচয় শনাক্তে সহযোগীতা চেয়েছে পুলিশ সাংবাদিকতা একটি মহানপেশা এই পেশার সম্মান রাখতে হবে : পিআইবি মহাপরিচালক রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচনে বিজয়ীরা কে কোথায় কর্মরত পোকখালী যুবলীগের আলোচনা সভা সম্পন্ন জাতীয় দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকা’র সম্পাদক কে কক্সবাজারে অভিনন্দন মোঃ ফরিদ অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় এনএস নিউজ টিভির চেয়ারম্যান এম.এ ওমরের শুভেচ্ছা মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম কমান্ড কক্সবাজার জেলা শাখা গঠিত ওয়ান বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন কক্সবাজারে পিআইবি’র তিনদিন ব্যাপী ‘অনুসন্ধানমূলক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ’ শুরু
র‍্যাগিং প্রথার ইতি কোথায়???

র‍্যাগিং প্রথার ইতি কোথায়???

মোঃ আরিফ উল্লাহ।।

Ragging শব্দটির আভিধানিক অর্থ গোলমাল, এই কালচার টি বেশী লক্ষণীয় হয় গ্রিকে, তৎকালে র‍্যাগ শব্দটি ব্যবহার করতো সিনিয়র এবং জুনিয়রের মধ্যকার সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, কালের বিবর্তনে এর প্রয়োগ ও আমাদের ধারনার মধ্যে বিরাট পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এটি এমন এক প্রথা যার দংশনে ঝড়ে পড়তে হয়েছে হাজারো মেধাবীর শিক্ষার্থীদের, অস্বাভাবিক মৃত্যুর কাছে হারমানতে হইয়েছে দেশ সেরা কতশত শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট এর অর্থটা অন্যরকম, তা হল সিনিয়র বড় আপু আর ভাইয়াদের কর্তৃক মানসিক, যৌন, শারীরিক নিপীড়নের স্বীকার হওয়া, যার হয়না কোন বিচার বিশ্লেষণ, আপনি অভিযোগ করবেন তো আরো নির্যাতনের স্বীকার হতে হবে, এই ভয়ে সকলে আওয়াজ তুলতে ভয় পায়, সেই সাথে ধামাচাপা পড়ে সহস্রাধিক চিৎকার এবং বরবর নির্যাতনের চিত্র। এর যাত্রা শুরু হয় ইউরোপ এবং আমেরিকায়, দুঃখ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলুতে এর মাত্রা খুব বেশী। বিশেষ করে ভারত, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ। প্রশ্ন করা যেতে পারে যে র‍্যাগিং এর ফলে কি হয়? এর ফলে জুনিয়রদের সাথে দাদাগিরি করা যায়, শিক্ষকদের ভয় দেখানো যায়। সবার ই ব্যক্তিগত ইমেজ আছে আর কেউ চায়না তার সম্মানের হানি হোক, এই কারণে হয়ত শিক্ষকগন এই বিষইয়গুলি এড়িয়ে চলেন।

বড়ভাই তার জুনিয়রদের সাথে তার ইচ্ছে অনুযায়ী আচরণ করতে পারে, সে চাইলে সকলের সামনে জুনিয়রকে মারতে পারে, নাচাতে পারে, হলের সিট বাতিল করতে পারে, খাবার ঘরে সিনিয়রকে নিজের আসন টা ছেড়ে না দিলে সেই রাতে হয়তো তার সেই রাতের খাবার কপালে নাও জুটতে পারে। আর কোন কারণে সেই ভাই যদি হয় সরকার দলের তবে তো কথাই নেই। দলীয় ক্ষমতা আর সিনিয়রিটি দুই মিলে সেই কলেজ বা ভার্সিটিতে চলে তার রাজত্ব, তার কথায় প্রশাসন না চললেও তার পরামর্শ ছাড়া চলেনা সে চাইলে কারো হাত – পা ভেঙ্গে দিতে পারে। তার জন্য নেই কোনো নিয়ম নীতি, তার করতে হয়না কারো তোয়াক্কা, সে চাইলে হলে একাই একটা রুম নিজের করে নিতে পারে, আরো অনেক কিছুই করতে পারে। হল দখল, পদ দখল, টেন্ডারবাজির নামে গত ৪৫ বছরে প্রাণ দিতে হয় প্রায় ১৩২ জন, সেই সাথে দেশ হারিয়েছে তার মুল্যবান সম্পদ, খলি হয়েছে কত মায়ের কোল, পিতা নিজ হাতে কবর দিয়েছে তার সন্তান আর তার সাথে জড়িয়ে থাকা হাজার স্বপ্ন।
একটু পিছনে যাই, আগের রাজনীতির রঙ টা নাকি এমন ছিলোনা, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল আর ছাত্র শিবির যেই সংগঠনই হোক সবাই নাকি একে অন্যকে সম্মান করত, তাদের মধ্যে নাকি ছিল ভাতৃত্বের দৃঢ় বন্ধন, তবে আজ কেন মারা মারি আর হানাহানি? আগে নাকি ছাত্র নেতারা অন্য মতাদর্শের নেতাকে ডেকে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিত,এখন কেনো ক্যান্টিন ভাঙ্গে ? আগে একে অন্যকে দেখলে কোলাকোলি করতো আর এখন কেনো একে অন্যকে দেখলে দৌড়ায়? সেই সময়ে নাকি প্রত্যেকটি ছাত্র সংগঠন সাধারণ ছাত্রদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিত, এই সময়ে সাধারণ ছাত্ররা মার খায় আর নির্যাতিত হয়। আসলে তখন ছাত্র রাজনীতি ছিল ছাত্রদের কল্যাণে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশের তরে, বর্তমানে তা শুধু ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারে ও ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। মধ্যখানে অপব্যবহার করা হচ্ছে কিছু মহা ব্যক্তির নাম, যদি বলি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা তবে দেখা যাবে তার আদর্শ আর বর্তমান নেতাদের আদর্শ সম্পূর্ন উল্টো। যা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। মূলত র‍্যাগিং এর কারণে ছাত্ররাজনীতির আজ এই আবনতি, আর কিছু ক্ষমাতা লোভী রাজনীতিবিদের কারণে আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, মারামারি, হানাহানি আর ক্ষমতা প্রদর্শনের কারখানা, যা কারোই কাম্য নয়। যে ছেলেটি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে নিজের ক্ষমতার আর টাকার লোভে, যার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছে টর্চার সেল থেকে সে ভবিষ্যতে দেশের জন্য আর জনগণের জন্য ও তার রাজনৈতিক দলের জন্য কতখানি ভয়ঙ্কর তা অবশ্যই প্রতিটি দলের কর্তামহলে আলোকপাত করা অতীব জিরুরী। কারণ দলের হাজার ভাল কাজ নিমিষেই ধূলার সাথে মিশে যাবে দলের লেবাসধারী এই সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমে। ১২ বছরের প্রতীক্ষা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও হাজার স্বপ্নের একটি ফল ভার্সিটির একটি আসন, আর এতো সব স্বপ্ন নিমিষেই ম্লান হয়ে যায় প্রথম দিনেই, যখন শ্রদ্ধেয় বড়ভাই কতৃক র‍্যাগ নামাক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমাদের উচিৎ নিজের সন্তানের গতিবিধি যাচাই করা, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী যেমন তুখোড় মেধার অধিকারী হয় তেমন অনেক মেধাবী মেধা শূন্য হয়েও শিক্ষা জীবনের ইতি টানে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিৎ দলে অন্তর্ভুক্তির পূর্বে সেই ব্যাক্তির সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য যাচাই করা, কারণ রাজনীতি জনকল্যানকর মানুষের জন্য,সন্ত্রাসীর জন্য নয়। সরকারের সুদৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব সীমিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা এবং উপর্যুক্ত সকল বিষয়গুলো আন্তরিকতার সাথে মনিটরিং করলেই কেবল সুন্দর পরিবেশ তৈরি হওয়া সম্ভব। ছাত্ররাজনীতি হবে ছাত্রদের কল্যাণে এটাই আমাদের সকলের কামনা।
লেখকঃ মোঃ আরিফ ঊল্লাহ

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares