বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর কক্সিয়ান এক্সপ্রেসের খোলা চিঠি ঈদগাঁও থানা বুধবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে: উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার চেষ্টা ঃ উৎসুক জনতার ধাওয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচনে ১ম দিনে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ পৌর পরিষদের সাথে আলাপ করে তালিকা সংশোধন করুন, অন্যথায় জবাব দেবো: বিয়ানীবাজার মেয়র কক্সবাজার জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের রোগমুক্তি কামনায় সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ দোয়া মাহাফিল প্যারাসেলিং পয়েন্টের অবৈধস্থাপনা ৩দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করার আহ্বান বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ট্রাইব্রেকারে রামুর কাছে ৪—৩ গোলে হেরে ফেভারিট চকরিয়ার বিদায় উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হবে হট ফেভারিট চকরিয়া বনাম রামু বিজিবি’র করা চাঞ্চল্যকর ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় ব্লাস্ট এনজিও কর্মী- জামিন মঞ্জুর
রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কি এবং আমরা কোন পথে?

রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কি এবং আমরা কোন পথে?

লেখকঃ মোঃ আরিফ ঊল্লাহ।
আমরা নিজের ইচ্ছা মত সরকার, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সকল মহলকে গালমন্দ করে থাকি, এমন কি এক সরকারী অফিস অন্য অফিসকে দোষ চাপিয়ে দিতে কিঞ্চিৎ পরিমাণ দ্বিধা করিনা, কিন্তু আমরা কি কখনো নিজেদের দায়িত্বের কথা ভেবেছি? কখনো কি নিজের আবহেলা আর নিজেকে আড়াল করে রাখার কথা চিন্তা করেছি? আমাদের সকলকে এটা মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দূর্নীতির জন্য কোনো না কোন দিক থেকে আমরাও দায়ী। কারণ আমি, আপনি, আমরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক আমাদেরও দায়িত্ব আছে, কিন্তু কি দায়িত্ব? কেমন দায়িত্ব, কি করতে হবে, এ বিষয়ে আমরা মাথা ঘামাই না, আমরা ধরে নিয়েছি কর দিচ্ছি, ট্যাক্স দিচ্ছি, এতেই আমাদের সব দায়িত্ব শেষ, “আর কি করার আছে আমাদের?” এই বাক্যটি বলেই আমরা স্ব স্ব সকল দায়িত্বের ইতি টেনে দেই। ভুল করেও এমনটি ভাবিনা যে, আমি কি করলাম আমার দেশের জন্য? আমরা শুধু নিজেদের স্বার্থ আদায়ে আর গালমন্দ করাতে ব্যস্ত, দেশের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের কিছু দায়িত্ব আছে যা সম্পর্কে আমরা অধিকাংশ নাগরিক কখনো জানতে চাইনা। আমি পুলিশ, আমি একজন সাংসদ, আমি ব্যাংকার, আমি শিক্ষক, আমি চিকিৎসক, আমি ব্যবসায়ী, আমি উকিল, আমি মন্ত্রি, আমরাই সব, তাহলে এবার দুই মিনিট ভাবুন আসলেই কি আমরা আমাদের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি? চলুন নিজেকে প্রশ্ন করি, আমরা যদি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি তাহলে কি আজ দেশের ক্রান্তিলগ্নে চাল চুরির হিড়িক পড়তো? আমাদের দায়িত্বশীল মন্ত্রি মহোদয়গনের নিকট হতে আমাদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য শুনতে হতো? আমরা ভাবি আমি সাধারণ মানুষ, আমি কি করব? আমার একজনের দ্বারা কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আপনি কি এটা ভেবেছেন আপনার সচেতনতা থেকে আপনার পরিবারের সচেতনতা, আপনার পরিবার হতে আপনার প্রতিবেশী, প্রতিবেশী হতে মহল্লা, মহল্লা হতে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড হতে ইউনিয়ন, এভাবে দেশটাই পরিণত হবে দূর্নীতিমুক্ত একটি দেশে, তখনি কেবল সোনার বাংলাদেশ হওয়া সম্ভব।
রাষ্ট্র , নাগরিক ও নাগরিকের দায়িত্ব, এই বিষয়গুলী সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক, রাষ্ট্র হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড যেখানে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন অনুশারে নাগরিক বা জনসাধারণ বসবাস করে। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী (A nation or territory considered as an organized political community under one government)”। অর্থাৎ, রাষ্ট্র হচ্ছে “একটি জাতি বা ভূখণ্ড যা এক সরকারের অধীনে একটি রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচিত।” অন্যদিকে নাগরিক হচ্ছে, নগরবাসী বা যারা নগরে বাস করে তাদের নাগরিক বলে, যদি একটু বিশ্লেষণ করে বলি তাহলে, নাগরিক বলতে সেই সকল জনসমষ্টিকে বুঝায় যারা কোন দেশের বা রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূ-খন্ডে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করে এবং তার অধিকার ভোগ করে। “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের মতে, নাগরিকরা রাজনৈতিক সমাজের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা সেই জনসমষ্টি যারা রাস্ট্র গঠন করে এবং সকলে মিলে মিশে ব্যাক্তিগত ও সমষ্টিগত অধিকার রক্ষার্থে সরকার গঠন করে অথবা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করে।” সুতরাং, নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব রয়েছে, এই দায়িত্বকে ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়, নৈতিক দায়িত্ব, আইনি দায়িত্ব এবং মৌলিক দায়িত্ব। নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, নিজের পরিবার, আন্তীয় স্বজন, প্রতিবেশী, হতদরিদ্র গ্রামবাসী ও নিজ গ্রামের মঙ্গলে কাজ করা ইত্যাদি। আইনি দায়িত্ব বলতে বুঝায় যেসকল কাজ না করলে শাস্তি হতে পারে এমন কিছু দায়িত্ব, যেমন দেশের সংবিধানকে মান্য করা, দেশের আইন মেনে চলা, ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করা ইত্যাদি। মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, নিজ দেশের পতাকা, জাতীয় সংগীত, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, জাতীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়িত্বের কথা ইসলাম ধর্মেও গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে, তুলে ধরা হয়েছে এর তাৎপর্য, গুরুত্তারুপ করা হয়েছে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকার, বলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় আইন কানুন মেনে চলার কথা, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘শ্রবণ করা, অনুসরণ করা, মেনে চলা সুদিন ও দুর্দিনে সব অবস্থায়তেই নাগরিকদের জরুরি কর্তব্য।’ (মুসলিম : ৩৪১৯)। কিন্তু আমাদের অবস্থান টা ভিন্ন, দেশের চিকিৎসক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক যেখানে মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে করোনার থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করায় ব্যস্ত ঠিক তার উল্টো দিকে কিছু অমানুষ গরিব অসহায়ের চাল চুরিতে ব্যস্ত। অন্য এক হাদিসে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাষ্ট্রপ্রধান একজন দায়িত্বশীল, তাকে দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্বামী তার পরিবার-পরিজনের দায়িত্বশীল। স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের সন্তানদের দায়িত্বশীল। সুতরাং তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (বোখারি : ২২৭৮)। তবে আমরা কি জবাব দিব? আজ নয়ত কাল মৃত্যুর স্বাদ অবশ্যই গ্রহন করতে হবে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, প্রত্যেক ধর্ম দূর্নীতি কে না বলেছেন। বলেছেন নিজ দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷ (২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য”৷ এবার আমরা নিজেদের যাচাই করি, আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? তাহলে এতো কিছুর পরেও কেন আমরা অহেতুক বাড়ির বাইরে বের হই? সরকার কি আমাদের থেকে অনেক বেশী কিছু চেয়েছে? নাকি নিজের জীবনের চেয়ে বাসার বাইরে যাওয়া অতি মাত্রায় গুরুত্বপুর্ণ? এমন নয়তো যে আমরা চোর-পুলিশ খেলছি? তবে দিন শেষে ক্ষতি কিন্তু আমাদেরই হবে? হাসপাতালের সিটে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আফসোস করে তখন আর কোন ফায়দা হবে না, ততক্ষণে হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে। নিজেকে প্রশ্ন করি কেন আমরা এমন? কেন সাধারণ ছুটির মধ্যে হাজার হাজার শ্রমিককে পায়ে হেটে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে নিজ শহর ছাড়তে হয়? কেনইবা তাদের আবার উল্টো ফিরতে হয়? এমন নির্মম পরিস্থিতিতে কেন আমরা বাড়ী ফেরায় মগ্ন? কেন সরকারী চাল মাটির নিচে, রাইস মিলের গুদামে, বাড়ীর ভিতরে, দোকানে ও এমন এমন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে যেখানে থাকার কথা নয়। এই চাল তো কর্মহীন পিতার সন্তানের মুখের আহার হওয়ার কথা যা দেখে পিতার মনে সস্থির হাওয়া বইবে, দেশ ও সরকারের প্রতি অভিযোগের পরিবর্তে মনে শ্রদ্ধা জায়গা করে নিবে। কেন আমরা অপরিকল্পিত ত্রাণ দিচ্ছি যার ফলে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরুত্ব, আপনার দেয়া দুই দিনের খাবার নিতে এসে যদি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কিছু হয়ে যায় তাহলে আপনার লোক দেখানো ত্রাণ সেই পরিবারের জন্য কতোখানি মারাত্মক তা কল্পনাতীত। কেন ত্রাণ গ্রহিতার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলি আমরা? কেন আমরা তাদের যথাযথ সম্মান দিতে পারিনা? কেন ত্রাণের নামে ছবি তোলা আর ভিডিও করায় ব্যস্ত থাকি? কেনইবা ত্রাণ গ্রহীতার ছবিটাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া ও অন্যান্য মিডিয়াতে দিতে হবে? আমরা কি একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ছবি তোলে তা ব্যবহার করতে পারিনা? যেখানে ত্রাণ ও ত্রাণ প্রদানকারী মুখ্য হবে। আমরা কি জানি উপরের সকল সমস্যার সমাধান একমাত্র আমরাই করতে পারি, হ্যাঁ, আমরাই পারি কারণ আমি, আপনি আমরা সকলে মিলেই আমাদের সোনার বাংলাদেশ। শপথ করি যা কিছু করব দেশকে ভালবেসে, দেশের মঙ্গলের জন্য করব, আসুন নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করি, বাসায় অবস্থান করি, প্রয়োজনে সরকারের সাহায্য নেই। নিজে বাঁচি, দেশকে বাচাই, দেশপ্রেমের আরো একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করি।
লেখকঃ মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ
Email: arifcbiu@gmail.com

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares