শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

রামুকে করোনা মুক্ত রাখতে সফল যোদ্ধা- প্রনয় চাকমা

রামুকে করোনা মুক্ত রাখতে সফল যোদ্ধা- প্রনয় চাকমা

কক্সবাজার অফিস।।
বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনার (COVID-19) করাল গ্রাসে বিশ্ব যখন লন্ডভন্ড। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিষাক্ত থাবায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলো পরিনত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। সাথে দেশেও থেমে নেই এতে আক্রান্তের সংখ্যা, প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত ১০৪১ জন বেড়ে মোট আক্রান্ত ১৮৮৬৩ জন। নতুন করে মৃত্যু আরো ১৪ জন বেড়ে মোট মৃত্যু ২৮৩ জন। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তা ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। দেশের প্রায় সব জেলায় দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ককসবাজার জেলায়ও পিছিনে নাই। সাথে আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পও আক্রান্ত হয়েছে নতুন করে। যা ককসবাজার জেলার জন্য অশনি সংকেত বলেছেন সচেতন মহল। এখনো পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় সচেতনতাই একমাত্র প্রতিরোধের উপায় বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নে এর প্রভাব ঠেকিয়ে কিভাবে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে সর্বদা তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের আলোচিত নির্বাহী অফিসার বাবু প্রনয় চাকমা। তিনি করোনার শুরু থেকে, দিনরাত পরিশ্রম করে, ১১ ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, করোনার বিষয়ে সচেতন করতে। অসংখ্য প্রবাসিসহ নানা জেলা থেকে আগত লোকদের লকডাউন করে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেইন্টাইন নিশ্চিত করেছেন। এতে অনেককে আইন লংঘন করাই জরিমানা করা হয়েছে। হাট বাজারসহ প্রতিটি জনবহুল এলাকায় প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট করে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে বলে দাবী করেন এলাকার সচেতন মানুষ। যার কারনে, এখনও পর্যন্ত রামুতে দ্বিতীয় কোন করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি বলে এলাকার লাখও মানুষের দাবী। ১১ ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা পেলে দেশের অন্য উপজেলার চেয়ে রামুকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে মনে করছেন উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। ভৌগলিক অবস্থানের কারনে রামুর ভূখন্ড, ককসবাজার জেলা ছাড়াও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্বেও, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাওয়ারকোপ ইউনিয়ন বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন গত ৮ এপ্রিল থেকে আগমন-বহির্গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, ১১ ইউনিয়নের প্রবেশ পথগুলো বন্ধ ঘোষনা করলেও করোনার হটস্পট খ্যাত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে কিছু মানুষ গোপনে প্রবেশ করলেও, তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রনয় চাকমা বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সংক্রমণ রোধে রামুতে গোপন প্রবেশ ঠেকাতে ১১ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহল নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন তারা। তাছাড়া সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগীতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares