শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচন আজ মধ্যরাতে স্কুল শিক্ষককে হত্যার হুমকি : শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যরাতে স্কুল শিক্ষককে হত্যার হুমকি : শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবী ছাত্র ইউনিয়নের রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচন কাল কক্সবাজার মহেশখালীর তহশিলদার জয়নাল দুদক’র হাতে গ্রেপ্তার মুজিববর্ষ উপলক্ষে জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছে ৮৬৫ গৃহহীন, শনিবার হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছালো করোনার টিকা ঈদগাঁও থানা শুভ উদ্বোধন করেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গীবাদ—সন্ত্রাসের ন্যায় মাদকের বিরুদ্ধেও জয় হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মনোনীত
বিয়ানীবাজারে মুজিববর্ষের উপহার নিয়ে নানা কথা

বিয়ানীবাজারে মুজিববর্ষের উপহার নিয়ে নানা কথা

সিলেট অফিস : বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রকৃত ভূমিহীনরা মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে অজ্ঞাত কারণে তারা কাঙ্খিত এ উপহার পাচ্ছেন না। কোন রকমের আলাপ আলোচনা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালিকা প্রেরণ ও তড়িঘড়ি করে তা বরাদ্দের খবরে জন প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক মহলে বিরাজ করছে ক্ষোভ আর হতাশা। বিভিন্ন সূত্র সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল এ সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক জালালাবাদ-এ প্রকাশ হলে এ নিয়ে বিয়ানীবাজারে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তার অতি গোপনীয় কর্মকান্ড চলে আসে এ আলোচনায়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যকে উপেক্ষা করে ভূমি কর্মকর্তার দরজা বন্ধ করে তালিকা তৈরীর বিষয়টিও লোকমুখে শুনা যাচ্ছে।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার বাসিন্দা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, সকলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তালিকা তৈরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রকৃত ভূমিহীনদের দিতে হবে অন্যথায় তা বরদাশত করা হবে না।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসা মৌজার ১ নং খতিয়ানের ১০৩৯ দাগে ৫০ জন ভূমিহীনকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২ শতাংশ ভূমিসহ একটি গৃহ উপহারের সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন ইউএনও এবং ভূমি কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে প্রেরিত তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন হয়ে এসেছে। আর এ কারণেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ভূমি কর্মকর্তার অফিসের কতিপয় কর্মচারী অতি গোপনীয়তার সাথে অনুমোদিত ৫০ জনের নামে একটি কম্পিউটার দোকানর থেকে সার্টিফিকেট তৈরী করে নিয়ে গেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরিত তালিকা এ প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছলে তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তালিকার প্রথম বরাদ্দ পাওয়া মহিলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের মাষ্টার রোলের একজন কর্মচারীর মা। তাদের বাড়ী হবিগঞ্জ জেলায়। এ ছাড়াও ওই তালিকায় বিয়ানীবাজার পৌরসভার হাতেগুনা কয়েকজন বাসিন্দার নাম থাকলেও বেশি ভাগ নাম বিয়ানীবাজার পৌরসভার বাসিন্দার নয় বরং ভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের। সূত্রটি তালিকা তৈরী কার ইশারায় হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রমতে, পৌরসভার ২ জন নাগরিককে মেয়র প্রকৃত ভূমিহীন হিসেবে প্রত্যয়ন দিলেও তাদের নাম নেই চুড়ান্ত তালিকায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও ভূমি অফিসে গেলে এ নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে কেউ রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র ৫০ জনের নাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন হয়ে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র গুলো জানায়, মাঠ পর্যায় থেকে যে তালিকা ভূমি কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল তার অনেক নামই তারা অনুমোদিত তালিকায় খোঁজে পাননি। গোপনে সার্টিফিকেট তৈরী প্রসঙ্গে সূত্র গুলো জানায়, উর্ধতন অফিসারের নির্দেশ পালন করতে তারা নয়; খোদ ভূমি কর্মকর্তাকে কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে সার্টিফিকেট তৈরীর নির্দেশনা দিয়ে যেতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে বিয়ানীবাজারের সহকারী কমিশনার ভূমি মুশফিক উন নূর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার জন্য কতজন ভূমিহীনের আবেদন জমা পড়েছিল তা বলতে পারেননি। তবে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে অফিস চলাকালীন সময়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বলেন।
ভূমি বরাদ্দ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, পৌর এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এক টুকরো ভূমিসহ গৃহ দেয়া হচ্ছে এ বিষয়টি তিনি অবগত। এই কমিটিরও একজন উপদেষ্টা তিনি। কিন্তুু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোন কিছুতেই এই জনপ্রতিনিধিকে পাত্তা না দেয়ায় তিনি জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করেন কিন্তুু জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে সকল সিদ্ধান্ত নেবেন বলে দিলেও ইউএনও তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। বিয়ানীবাজার পৌরসভার বাসিন্দা উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, পৌরসভার ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্য এলাকা বা জেলার মানুষকে বরাদ্দ দিলে তা বরদাশত করা হবে না।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাদেরকে এই ভূমি থেকে বরাদ্দ প্রদান করছেন তা পৌরসভার মেয়র হিসেবে তাকে অবগত করেননি। তিনি বলেন, আমার পৌর এলাকায় সরকারী ভূমি বরাদ্দ দেয়া হলে অবশ্যই আমার মতামত নেয়া দরকার ছিল। কিন্তুু কেন তা করেননি তা বোধগম্য নয়।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর নাজিম উদ্দিন বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার নাগরিক ও ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্য এলাকা বা জেলার নাগরিকদের ভূমি ও গৃহ বরাদ্দ দিলে তা আমরা মেনে নেব না। এলাকাবাসীকে নিয়ে যা যা করণীয় তা করা হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়ার বাড়ীও বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসা এলাকায়, এ নিয়ে ওই প্রবীন নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। প্রশাসন থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares