বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
ইসলামাবাদে জমির বিরোধে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর কক্সিয়ান এক্সপ্রেসের খোলা চিঠি ঈদগাঁও থানা বুধবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে: উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার চেষ্টা ঃ উৎসুক জনতার ধাওয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচনে ১ম দিনে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ পৌর পরিষদের সাথে আলাপ করে তালিকা সংশোধন করুন, অন্যথায় জবাব দেবো: বিয়ানীবাজার মেয়র কক্সবাজার জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের রোগমুক্তি কামনায় সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ দোয়া মাহাফিল প্যারাসেলিং পয়েন্টের অবৈধস্থাপনা ৩দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করার আহ্বান বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ট্রাইব্রেকারে রামুর কাছে ৪—৩ গোলে হেরে ফেভারিট চকরিয়ার বিদায় উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হবে হট ফেভারিট চকরিয়া বনাম রামু
অবৈধ কম্পানির লোভনীয় অফার!! ব্যবসায়ী সনদ ছাড়াই রমরমা ব্যবসা

অবৈধ কম্পানির লোভনীয় অফার!! ব্যবসায়ী সনদ ছাড়াই রমরমা ব্যবসা

 

★নেই কোন সার্টিফিকেট তবুও তারা ডাক্তার
জেড এম রুবেল :
একের পর এক প্রতারণার পরও দেশে বন্ধ হয়নি ঠকবাজ এমএলএম (বহুস্তর বিপণন পদ্ধতি) কোম্পানির দৌরাত্ম্য। রাজধানীতে এমএলএম ব্যবসার অভিনব ফাঁদ পেতেছে ফরএভার লিভিং প্রডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এমএলএম ব্যবসা করার কোনো সনদ না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অধিক অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য বানাচ্ছে সহজ-সরল তরুণ-তরুণীদের। এর মাধ্যমে প্রসাধনী ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ উচ্চ দামে সদস্যদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। আর ভবিষ্যৎ আয়ের আশায় তাদের সেই পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন বেকার যুবক-যুবতীরা। ডেসটিনির প্রতারণা ফাঁস হওয়ার পর সরকারের দৌড়-ঝাঁপে কিছুদিনের জন্য আড়ালে চলে যায় এমএলএম কোম্পানির নামে এসব প্রতারকরা। তবে সম্প্রতি বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠান। এদেরই একটি ফরএভার লিভিং প্রডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের যে ভবনটিতে একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) কার্যালয় রয়েছে ওই ভবনে অফিস নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির ব্যবসা যে বেশ রমরমা হয়ে উঠেছে তা এ অফিসে তরুণ-তরুণীদের আগমন দেখে সহজেই বোঝা যায়।

ইটিভির গলিতে ঢুকলেই চোখে পড়ে ফরএভারের বেশ কিছু ডিস্ট্রিবিউটর। তারা তাদের পণ্যের গুনাগুন সম্পর্কে বলছেন ক্রেতাদের সঙ্গে। ক্যান্সার,কিডনী, চর্ম থেকে শুরু করে নারী-পুরুষের বিবিধ যৌনরোগ সমস্যা নিমিষেই সারিয়ে তুলছেন এসব ডিস্ট্রিবিউটররা। অথচ তাদের একজনেরও পুষ্টি বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর পেশাগত কোন ডিগ্রি নেই। নেই কোনো অভিজ্ঞতা।

এদিকে, পানীয়,পুষ্টি, মধু পণ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, ত্বক পরিচর্যা (ত্বক ও শরীর) ও সোনিয়া ক্যাটাগরিতে বিক্রি করা বেশির ভাগ পণ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। যেমন তাদের বিক্রি করা ফরেভার ব্রাইট টুথজেল।

বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, এই টুথজেলের কোনো অনুমতি নেই। তবে কোম্পানিটি দেদারছে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করছে টুথজেলের টিউবের গায়ে।

অন্যদিকে, এ কোম্পানির বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। অনেক পণ্যের উৎপাদনের তারিখও উল্লেখ নেই।

প্রসঙ্গত, যুবক, ডেসটিনি-২০০০ কেলেঙ্কারির পর এমএলএম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকারের তৎপরতা শুরু হয়। ২০১২ সালে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের অনিয়ম-দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পর সরকার ২০১৩ সালের অক্টোবরে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের অধীনে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা হয় বিধিমালা।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট এমএলএম ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুনরায় এক নির্দেশনা জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (স্মারক নম্বর-বাম/টি,ও-১/এমএলএম/২০১০(অংশ)/৩৮৩)।

এদিকে, ফরএভার কর্তৃপক্ষের প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন রাজীব তালুকদার। তিনি ওই কম্পানির একজন ডিস্টিবিউটর ছিলেন, যার আইডি নং-৮৮০০০০১০৭৯৪২। কোন প্রকার কারণ দর্শনোর নোটিশ ছাড়াই তার আইডি টার্মিনেট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে কথা হয় রাজীব তালুকদারের সাথে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফরএভার কর্তৃপক্ষ আমার সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে। আমাকে কোন প্রকার অবগতি না করেই আমার আইডি বাতিল করেছে। আমি কম্পানির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি এবং কোটি টাকার ক্ষতি পূরণ দাবিও করেছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফরএভার কর্তৃপক্ষ আমার লিগ্যাল নোটিশের কোন জবাব না দিয়েই আমাকে বিভিন্নভাবে প্রাননাশের হুমকিদামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি বাধ্য হয়েই আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কম্পানির বিরুদ্ধে তেজগাঁ থানায় জিডি করি যার নং-৯৪১। এছাড়াও ফরএভার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২টি মামলাও করেছেন বলে জানান এই ভুক্তভোগী। যার মামলা নং-মোকাম বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত ঢাকা, ১৭৭৮/২০১৮। এবং মোকাম বিজ্ঞ ৪র্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা, মামলা করেছি। যার দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং-৭২৯/১৮/১০১৮।

এসব বিষয়ে ফরএভার লিভিং প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজার অপারেশন মো.নাজমুস সাদাতের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা এমএলএম পদ্ধতিতেই এ দেশে ব্যবসা করছি। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। আইনের ফাঁক-ফোকরকে কাজে লাগিয়েই ব্যবসা করছেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে সাদাত বলেন ‘বিষয়টা এমন নয়, আইনই আমাদের এ সুযোগ করে দিয়েছে।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে, ফরএভারের সাবেক কান্ট্রি সেলস ম্যানেজার এম বদরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে তো এমএলএম নিষিদ্ধ। ফরএভার কোম্পানি লিখিত দিতে পারবে না, যে তাদের ব্যবসা করার অনুমতি রয়েছে। তাহলে আপনার সময়ে কিভাবে ব্যবসা করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি চুক্তিভিত্তিক পণ্য বিক্রয়ের কাজ করেছি, পার্মানেন্ট স্টাফ না।

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares