বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

সড়ক সংস্কার আন্দোলনের জন্য ইমরুল কায়েসকে কউকের লিগ্যাল নোটিশে নিন্দার ঝড়

সড়ক সংস্কার আন্দোলনের জন্য ইমরুল কায়েসকে কউকের লিগ্যাল নোটিশে নিন্দার ঝড়

এনএস নিউজ।।
কক্সবাজারের বিধ্বস্ত প্রধান সড়ক সংস্কার আন্দোলনের সফল সংগঠক ও অধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেতা, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেছে, লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ। কউকের পক্ষে এডঃ এস এম শহীদুজ্জামান লিগ্যাল নোটিশে বলাহয়, সড়ক সংস্কার নিয়ে ফেইসবুক কমেন্টের ইমরুল কায়েসেকে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের নিকট ক্ষমাচাইতে হবে। ক্ষমা নাচাই তার বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করবে কউক।

কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ কউকের এই লিগ্যাল এইনিয়ে ইমরুল কায়েস তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। এতে তিনি লিখেন ” কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মামলাটা কখন করে সেই অপেক্ষায় আছি। আমার অধিকার আদায়ে আপনার এই মামলা আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করবে। আমার কন্ঠ রোধ করতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে।”
একই স্ট্যাটাসে তিনি একটি লিগ্যাল নোটিশ সংযুক্ত করেন।

আজ ২৫ জানুয়ারী শনিবার কক্সবাজার প্রধান সড়ক সংস্কারের আন্দোলনের নেতা ইমরুল কায়েসের এই স্ট্যাটাসের পরে সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠে। পুরো কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ কউকের এই লিগ্যাল নোটিশের নিন্দা জানাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না করায় কক্সবাজারবাসীর কাছে কউক কে ক্ষমা চাইতে বলছেন।

রুবায়ছুর রহমান নামের একজন মন্তব্য করেছেন “এই কক্সবাজার আমার, আপনার, সকলের, কক্সবাজার উন্নয়ন নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে আর এটা সবার চোখ বুঝে সয্য করতে হবে? এটা কখনো হবেনা। কারোনা কারো প্রতিবাদী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে, আর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিবাদ করাটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা মগেরমুল্লুকে বাস করছি। ইমরুল কায়েস ভাই আপনি কখনো মাফ চাইবেননা। আপনার সাথে কক্সবাজারের সর্বস্তরের জনগণ আছে। প্রয়োজনে ৫০ হাজার মামলা করুক, প্রতিবাদের কন্ঠস্বর কখনো থামানো যাবেনা।

শেফায়েত মোস্তফা নামের একজন লিখেছেন
“এদের কি লজ্জা সরম বলতে কিছুই নাই… সত্যি টা যখন কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করল উনাদের গায়ে জালা পোড়া শুরু হয়েগেছে…কথায় আছে ” হক কথায় ঠক বেজার.. গরম ভাতে বিলাই বেজার”।

জসিম উদ্দিন টিপু মন্তব্য করেন,
“ফেইসবুকে জনকল্যাণকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় Imrul Kayes বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(কউক)। বিষয়টি কেন জানি বিভ্রান্তিকর!
সড়ক এবং জনসমস্যা সংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যু নিয়ে স্ট্যাটাস দিলে দূষের কি আছে?
সাংবাদিক Imrul Kayes নোটিশের প্রত্যুত্তরে ইতিমধ্যে অপর একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এবার কউক কি করবেন?
জনপক্ষে স্ট্যাটাস দেখে সমস্যার সমাধান না করে,উল্টো মানহানি-টানহানি হয়েছে মর্মে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো কিসের ইঙ্গিত? এটি দায়িত্বহীন আচরণের শামিল। তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এম সাইফুল ইসলাম সোহেল মন্তব্য করেন ” সত্যের জন্য বিশ কোটি টাকা কক্সবাজারবাসী ভালবেসে যোগাড় করবে আপনার (যদি আল্লাহ আপনাকে এর চাইতে অনেক অনেক বেশি দিয়েছে) জন্য, তবু মাথা নোয়াবার নই!”

হিরো কক্সবাজার নামের একজন লিখেছেন, কতবড় দুঃসাহস হলে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এমনটি করতে পারে!
কক্সবাজার শহর মানুষের বসবাসের অযোগ্য ছিল গত কয়েক মাস ধরে
তখন আপনাদের ২০ কোটি টাকার সম্মান কোথায় ছিল?
আচুদা মূর্খের মতো ২০ কোটি টাকার সম্মান বাছাতে প্রথম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন চান?
কয়জনকে ধমক দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?
এখনো সময় আছে
আপনারা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কে বলছি যত তারাতাড়ি সম্ভব কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিন।
না হয় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কে কক্সবাজারবাসী সারাজীবন অসম্মানজনক কথা বলে ই যাবে।
এখনো সময় আছে
কর্তৃপক্ষ কে বলছি ভালো আছেন ভালো থাকার চেষ্টা করেন বেশি লাফালাফি করতে নেই।

শরিফ উদ্দিন নামের একজন লিখেছেন “বাহ় , উন্নয়ন কতৃপক্ষের এমন হীন মন মানুষীকতার নিন্দা জানাই।
ভাই আপনার কাছে ক্ষমা চাইবে। আপনার সাথে কক্সবাজারের জনগণ আছে।”

নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ” তারা মনে করেছে যে,মামলা দিয়ে ইমরুল কে দমানো যাবে,তাহলে এটা হবে তাদের ভুল ধারণা, এগিয়ে যাও ইমরুল কক্সবাজার বাসী তোমার সাথে আছে।”

শহিদুল আলম নামের একজন লিখেছেন ” জনগনের ঠেলা কঠিন। সাধারন আমজনতার মনে তিলে তিলে জমাট হওয়া আগুন নিয়ে খেলা করলে শেষ হবে ছাই হয়ে। সচিব জনগনের টাকায় চাকরী করে তাই জনগনের অসুবিধা, কষ্ট, লাগবের জন্যই কাজে মনোনিবেশ হওয়া উচিৎ ।জনগনের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। মনে রাখবে এক ইমরুলের জন্ম থেকে লক্ষ ইমরুল সৃষ্টি হবে। জনগনের ঠেলা সাংঘাতিক কঠিন। ইতিহাস সাক্ষী।”

আরিফ উল্লাহ নুরী লিখেছেন ” তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সব সময় ইমরুল ভাইয়ের পাশে আছি ।

আপনি সবসময় মানুষের উপকার করেছেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছেন, মানুষের রাস্তায় চলাফেরা করতে কষ্ট হচ্ছে সেটা নিয়ে কথা বলেছেন, অন্যায় কখনো করেন নাই, কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নাই, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন।
কক্সবাজার শহরবাসীর চোখে আপনি একজন প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব ও ভালোবাসার পাত্র।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এমন লিগ্যাল নোটিশ থেকে সত্যি মর্মাহত !

কতটুকু নির্লজ্জ হলে এমন লিগ্যাল নোটিস পাঠানো যায়!”

নাজমুল আলম নামের আরেক জন মন্তব্য করেছেন ”
সরকারী প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে জনগন প্রতিবাদ করবে এইটা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার।জনগনের পক্ষে কথা বলার জন্য আমরা কক্সবাজারের জনগন Imrul Kayesএর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।”

এই ধরনের শত শত মানু্ষ ভালোবাসা দিয়ে সাহস যোগাচ্ছে ইমরুল কায়েসকে।

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিধ্বস্ত প্রধানসড়ক সংস্কার করার জন্য আন্দোলন করেছে কক্সবাজারের সর্বস্তরের নাগরিক। পর্যটন শহরের বেলাল দশায় অনেকটা বাধ্য হয়ে গত ১৩ জানুয়ারী কক্সবাজার প্রেসক্লাবে একটি নাগরিক সভাকরে কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ। কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ঐ নাগরিক সভা সঞ্চালনা করেন সড়ক সংস্কার আন্দোলনের নেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

শেয়ার করুন...

Design: POS Digital
Shares