সংবাদ শিরোনাম
  • সকাল ৯:৩৩ | ১৮ই জুলাই ২০১৯ ইং , ৩রা শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

রোহিঙ্গাদের বিয়ে বিয়ে খেলা

ডেস্ক রিপোর্ট::
ধর্মের দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে আগে থেকেই একাধিক বিয়ে সিদ্ধ। বর্তমানে ত্রাণে সমতার অজুহাতে তিন তালাক দিয়ে বিয়ে ভেঙে দিচ্ছেন রোহিঙ্গা নারীরা। কিছু দিন পর সাবেক স্বামীর কাছে ফিরতে করছেন হিল্লা বিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিন-চার দিনের জন্য চুক্তিভিত্তিক কাউকে বিয়ে করছেন। তবে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধনের ব্যবস্থা না থাকায় রোহিঙ্গা পরিবারের দাম্পত্য বিবাদ মেটানো কঠিন হচ্ছে প্রশাসনের।

কুতুপালং সম্প্রসারিত ক্যাম্প ও থাইখ্যংখালীর তাজনিমারখলা ক্যাম্পে একাধিক রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ, মসজিদের ইমামদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা পুরুষরা মিয়ানমারে থাকাকালীন একাধিক বিয়ে করত। কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার পর এ প্রবণতা আরও বেড়েছে। রোহিঙ্গা মাঝিরা একাধিক বিয়ে করছেন। এর শিকার হচ্ছেন বিধবা নারী ও শিশুরা। এ নিয়ে পারিবারিক কলহেও জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

এসব বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে সালিশে সমঝোতা না হলে বিচারের ভার পড়ে ক্যাম্পে নিযুক্ত ‘শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআসি) ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর। তারা মূলত উভয়পক্ষকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেই মীংমাসার উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।

এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের বিয়ে-তালাকে নিবন্ধন বা প্রমাণপত্র না থাকায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযোগের সুযোগ কম।সম্প্রতি উখিয়ার পালংখালী চাকমারকুল ২৩ নম্বর ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে (সিইসি) একটি অভিযোগ জমা দেন এক গৃহবধূ সাকারা বেগম (২০)।

পালংখালী আই-ফাইভ ব্লকের বাসিন্দা সাকারার অভিযোগ, দুই বছর আগে মিয়ানমারের কৃষক জোবাইরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গত বছরের আগস্টে তারা বাংলাদেশে আসেন। এর পর হঠাৎ করে স্বামী তাদের চার মাসের সন্তানকে অস্বীকার করে লম্বাশিয়া ক্যাম্পে গিয়ে বিয়ে করেন। এ অবস্থায় স্বামীর বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন সাকারা।

ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের একাধিক অভিযোগ আসছে। আমরা কীভাবে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যায় সে বিষয় লক্ষ্য রেখে দুপক্ষকে কাউন্সেলিং করাচ্ছি।রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে জানা যায়, একাধিক বিয়ের কারণে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে। হচ্ছে তালাক। আবার হিল্লা বিয়ে করছেন। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পে গড়ে ওঠা মসজিদগুলোর ইমামরা ভূমিকা রাখছেন।

যারা মিয়ানমারের মাদ্রাসা-মক্তবে পড়ুয়া অল্প শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ছাত্র।কুতুপালং ১ নম্বর ক্যাম্প, সি/টু ব্লকের মসজিদে মুহাজিরিনের ইমাম ফজল করিম আমাদের সময়কে বলেন, ওই ক্যাম্পে ১১টি মসজিদ রয়েছে। দুজন করে রোহিঙ্গাকে সাক্ষী রেখে মসজিদে মাসে ৩-৪টি বিয়ে হয়।

একইভাবে তালাকের ঘটনাও ঘটছে। নারীরা তালাকের ক্ষেত্রে এগিয়ে। তার ভাষ্য, তালাকের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হিল্লা বিয়ে হচ্ছে।

সম্প্রতি ক্যাম্পে চার সন্তানের জননী এক নারী আগের স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে চাইলে হিল্লাপন্থা বেছে নেন। এ ক্ষেত্রে জোর করে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন সংসার করার পর ওই ছেলেকে তালাক দেওয়া হয়। তার মতে, এটি ইসলামেই বলা আছে।

একইভাবে তাজনিমারখলা ক্যাম্পের বি-সি/২০ ব্লকের বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমাম সিরাজুল হক বলেন, নবীজি ৮টি বিয়ে করেছেন। আমরা চারটি বিয়ে করতে পারি। আবার হিল্লা বিয়েও ইসলামে জায়েজ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুফতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী আমাদের সময়কে বলেন, ইসলামে হিল্লা বিয়ে নেই।

তবে প্রথম দুজনের মধ্যে তালাক হলে স্ত্রী অন্য কোথাও ঘর-সংসার করতে পারে। আবার কোনো কারণে যদি আবার দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু বা দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তালাকের নির্দিষ্ট সময় পর পূর্ববর্তী স্বামীর সঙ্গেও বিয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু প্রথম স্বামীর সঙ্গে আবার সম্পর্ক গড়ার জন্য কয়েক দিনের জন্য কারো সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে সেটি ইসলাম সমর্থন করে না।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থীদের ৫২ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ১৬ শতাংশ নারী, যারা ইতোমধ্যে মা বা বিবাহিত হয়ে এখন বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা। এর পেছনে মিয়ানমার সরকারের হত্যাকাণ্ড অন্যতম কারণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুগামিতার ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ নারীকে কোনো না কোনোভাবে বিয়েতে বাধ্য করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ফরিদ,কক্সবাজার থেকে: রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বৈধ কাগজপত্র বিহীন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এমন ১৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে র্যাব-৭। ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি যৌথ চেকপোস্টে...

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন



L0go

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

 
Shares